সকল স্তরের মানুষকে নিয়ে ভাবছে সরকার কিন্তু পুলিশের জীবন নিয়ে কেউ কি ভাবছে!

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০

সাফিয়ান স্বাধীন,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

পুলিশ মানে ঘুষখোর। থানার দরজাইও টাকা খায়।এসব কারণে পুলিশ এ সমাজে যেন আলাদা জীব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে ভালো মন্দ সব পেশাতেই আছে। কিছু মন্দলোকের জন্য সবাইকে গালি দেয়া ভুল। তাই পুলিশ নাম শুনলেই গালি দেয়ার আগে এখন ভাবতে হবে। কারন দিন বদলে গেছে। পুলিশ জনগনের বন্ধু এ মানসিকতা যেমন পুলিশের মাঝে পরিবর্তন আনছে তেমন সাধারণ মানুষের মনেও আসছে।

সমস্ত বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের কারনে লম্বা ছুটি নিয়ে জীবন বাঁচাতে লক-ডাউনে,তখন বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসি মুখে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত।জনগনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ঠেকাতে নরলস পরিশ্রম দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় আরএমপির সকল থানা পুলিশ সদস্যদের।

বাংলাদেশ পুলিশ মূলত একটি সেবা মূলক বাহিনী।কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় পুলিশ তাদের নিজেদেরই সেবা পাচ্ছেনা।

আরএমপি শাহমখদুম থানার পুলিশ সদস্য আশিক দৈনিক মুক্তিকে বলেন, যেখানে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা জিবন বাজি রেখে মূত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত এক করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে!সেখানে করোনা ভাইরাস ঠেকানোর জন্য পুলিশ বাহিনীকে মাক্স,হান্ড-গ্লোবস, হান্ড স্যানিটাইজার,পিপি এমন কিছু পাননি তারা।

তিনি আরও বলেন,বর্তমান পরিস্থিতি উপলব্ধী করে সকল সরকারী,বেসরকারী অফিস বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে আর পুলিশের ডিউটি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কারণ আমরা তো পুলিশ,কর্মস্থলে আসার আগে যে শপথ নিয়েছি সর্বাপেক্ষা যেকোন প্রতিকূল পরিবেশে নিজের জীবন বাজি রাখব,দেশে শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করব।এই শপথের জন্যেই কি আমরা প্রতিটা পুলিশ মৃত্যু নিয়ে খেলা করব!আমারাও মানুষ। আমরাও বাঁচতে চাই,আমাদেরও পরিবার পরিজন স্ত্রী সন্তান আছে,আমাদের কিছু হলে তাদের কি হবে? তাই পুলিশকে নিয়েও একটু ভাবুন, এই মহামারির সময় আপনাদের ভালবাসাটা একটু পুলিশদেরকেও দিন বিশ্বাস করুন পুলিশ তা অমর্যাদা করবে না বলে আবেগী কন্ঠে এইসব কথা জানান পুলিশ সদস্য আশিক।

বেশ প্রচলিত একটি কথা জনসাধারণের মুখে শুনা যায়,যে পুলিশরা তো সরকারী চাকুরী করে,আর জনগনের জন্যই তারা।তবে পুলিশ কেন আরাম করে ছুটি কাটিয়ে বেতন নিবে?
কেন বেতন নিবে তা যথাযথ যুক্তি দিয়ে বলেলেন শাহমখদুম থানার পুলিশ সদস্য আশিক।

তিনি বলেন,আমরা পুলিশরা কি বেতন নিচ্ছি না?
হ্যাঁ! বেতন তো নিচ্ছি। ডাক্তাররাও তো এই মহামারি করোনা ভাইরাসের সময়েও চিকিৎসা দিয়ে বেতন নিচ্ছে।তারপরও ৫০% ডাক্তাররা ছুটি কাটাচ্ছে।অনেক ডাক্তার ছুটিতে থাকার পরও তার ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে ৫০০ টাকায় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি ছুটি কাটাচ্ছে পুলিশ বাহিনিও সরকারী তবে তাদেরকে কেন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? বলে বিবেকবান জাতির প্রতি প্রশ্ন রাখেন পুলিশ সদস্য আশিক।

আশিক বলেন,সকল জেলাতে খবরের কাগজ ছাপানো বন্ধ করে দিয়েছে মৃত্যুর ভয়ে।
তাদেরও মূত্যুর ভয় আছে।তাহলে জনসাধারণ কেন বোঝেনা আমাদের জীবনের সাথে আরও ৪/৫ টা জীবন জড়িয়ে আছে।
পান থেকে চুন খসতে সময় দেয় না জনগন,গালাগালি ও সমালোচনায় তুঙ্গে রাখে পুলিশকে। বিবেকবান জাতিকে বলব। পুলিশদের খারাপটা দেখারও ভাল দিকটার দিকে একটু নজর দিবেন।পুলিশের গুনগান গাইতে না পারলেও। পুলিশের কষ্টগুলো একটু খোঁজার চেষ্টা করুন। আশিক আরও বলেন,সংবাদ কর্মীরা পুলিশের খারাপ দিকটা বেশী ঘষা মাজা করে কিন্তু আমাদের জীবন বাজি রেখে আমরা যা করি সেটা তাদের ক্যামেরা কলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।

সাফিয়ান স্বাধীন/রাজশাহী

Print Friendly, PDF & Email