অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব ও করোনা ভাইরাস

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রামিত হওয়ায় বাংলাদেশের সকল প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি অনলাইন মিডিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সে উপলব্ধির গুরুত্ব পাঠক, সাধারণ মানুষ ও সরকারকে অনলাইনের ভূমিকা সম্পর্কে উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কালে সরকারি সকল সংবাদ অনলাইনের মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও এখন অনলাইন সংবাদ গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে ঝুঁকে পড়েছে। দেশের অনলাইন সংবাদ মিডিয়ার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয় এটা সরকার ও জনগণ উপলব্ধি করতে পেরেছে।

দেশের এই ক্রান্তিকালে অনেক প্রিন্ট মিডিয়া প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছে, কিছু সংখ্যক মিডিয়া স্বল্প পরিসরে সংখ্যা ও পৃষ্ঠা কমিয়ে প্রকাশনা চালিয়ে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ক্লান্তিকালে ঘরে বসে না থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংবাদকর্মীরা সকল প্রান্তে ছুটে চলছেন এবং সংবাদ অনলাইনের মাধ্যমেই তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সংবাদ তুলে ধরতে গিয়ে অনেক সংবাদকর্মীও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
দেশের এই করোনা যুদ্ধে সরকারি কর্মচারীরা আক্লান্ত হয়ে পড়লে বা মারা গেলে সরকারি প্রণোদনা পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা এই সংবাদকর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে সরকারের কোনরূপ সহায়তা বা প্রণোদনা ঘোষণা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছেন।

আমাদের দেশে এখন নিয়ম-নীতি ছাড়াই শ্রমিক শ্রেণী থেকে শিক্ষিত শ্রেণী পর্যন্ত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম পরিচালনা করে আসছেন। এতে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলো সংখ্যা দিনে দিনে যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি অনলাইন সংবাদের কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব বা অপপ্রচার মূলক কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে। এসব ভুঁইফোড় নীতিবহির্ভূত ভাবে গড়ে ওঠা অনলাইন গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম অত্যান্ত জরুরি। সেই সাথে নিবন্ধন আওতায় সম্পৃক্ত থাকা অনলাইন গুলোর নিবন্ধন প্রদান করে ভুঁইফোড় অনলাইন গুলো বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন মাধ্যমে সকল প্রকার ভুয়া অপপ্রচার মূলক, বিভিন্ন গুজব প্রচার ঠেকাতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশনা করে আসছেন সেই সকল অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোকে গুলোকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে অনলাইন গুলোকে আরো গতিশীল করতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

দেশের করোনা ক্লান্তিকালে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এটা হয়তো বাংলাদেশের ১৮কোটি মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের এ যুগে তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকতায় এখন আর আমাদেরকে প্রিন্ট মিডিয়ার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না। সারা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। দেশের মানুষ এখন মিনিটে সারা বিশ্বের খবর অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলোর মাধ্যমে জানতে পারেন।

বাংলাদেশ সরকার অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করলেও এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। শুধুমাত্র আবেদন জমা নিয়ে বস্তা ভর্তি করে ফেলে রেখেছেন। দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন প্রদান শুরু করার উদ্যোগী হতে হবে সরকারকে। যে সকল অনলাইন নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবেন না, সে সকল অনলাইন গুলোকে দ্রুত বন্ধ করে ভুয়া সংবাদ গুজব ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমরা যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তির কারণে এগিয়ে চলছে আগামী দিনে বা আগামী প্রজন্ম অনলাইন সংবাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। সেইসাথে অনলাইন সংবাদ প্রকাশনায় যারা জড়িত আছেন তাদের সকলের প্রতি আহবান জানাবো যেহেতু দেশের মানুষ অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তাই কোনরুপ ভুয়া, গুজব মূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে অনলাইন মিডিয়াগুলোকে বদ্ধপরিকর হতে হবে।

নূর আলমগীর অনু, লেখক, সমাজকর্মী, প্রকাশক ও সম্পাদক (দৈনিক মুক্তি ডট নিউজ)

Print Friendly, PDF & Email