রাজশাহীতে আবারো মাথা চাড়া দিয়েছে নারী ফিটিংবাজ গ্যাংয়ের সদস্যরা

প্রকাশিত: ১:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

রাজশাহী নগরীতে মহিলা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা ফিটিংয়ের ঘটনা পুরোনো। তবে আবারও নতুনভাবে শুরু হয়েছে রোড ফিটিংয়ের কাজ। খবর নেই প্রশাসনের কাছে !

এ সিন্ডিকেটের পাতা ফাঁদে পা বাড়ালেই তাকে গুনতে হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা। নইলে উত্তম মাধ্যমের পাশাপাশি অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার মাত্র।গত বৃস্পতিবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানা এলাকার শিরোইল পুরোনো বাসটার্মিনালের পুকুর পাড়ে দুইজন ব্যক্তিকে রোড ফিটিং দিয়ে বসিয়ে রাখে প্রায় ঘন্টা খানেক।

এর আগে ফিটিংবাজরা ওই দুই ব্যক্তিকে শিরোইলে এক মহিলার বাসায় ঢুকানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয় ফিটিংবাজরা। প্রথমে নেয়া হয় ৩০ হাজার টাকা। পরে আবার বিকাশের মাধ্যমে নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। দুই ধাপে হাতিয়ে নেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই দুই ব্যক্তির বাড়ি ঢাকা শহরে। এ তথ্য ফাঁস করে ওই সিন্ডিকেটের এক সদস্য বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার দুই ব্যক্তিকে ফোনের মাধ্যমে ডাকেন রিনা ওরফে রানী।

তারা আসলে তাদের হাতে তুলে সাথী নামের এক মেয়েকে দেন তিনি। সাথী মাসুমের কথামতো ওই দুই ব্যক্তিকে শিরোইল এক মহিলার বাসায় নিয়ে যাওয়ার পথে ঘিরে ফেলে মাসুম, মুন্না আশিক ও সিজার নামের ব্ল্যাক মেইলাররা।

এ সময় তারা সাথীকে জিজ্ঞাসা করে এ লোক দুটি কে? সাথী বলে তারা আমাকে কাজের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তারপর শুরুহয় তাদের মারমুখি আচারণ। লোক দুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। এ টাকা গত বৃহস্পতিবার রাতেই ভাগ করা হয় রিনার বাসায়। এছাড়াও ফিটিংবাজরা বিভিন্ন কৌশলে খদ্দরের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

রাজশাহী নগরীতে এমনই একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নেপথ্য রয়েছে বোয়ালিয়া থানাধীন হাদির মোড় বৌবাজার এলাকার জনৈক মোঃ মাসুম শেখ (৩৮) ও রিনা ওরফে জনৈক রানী (৪০) নামের এক নারী। রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে মাসুমের বিরুদ্ধে। এর আগেও একই কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিকবার জেলে গেলেও ছাড়েনি পুরোনো পেশা।
এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা জনৈক মোঃ মাসুম শেখ ও রানী। রিনা, শিলা, শাকিলা, আশা, তানিয়া নামের একাধিক মেয়ে আছে তাদের এই সিন্ডকেটে। রিনার কাজ মোবাইল ফোনে ও ফেসবুকের মাধ্যমে খদ্দের ভেড়ানো (শিকার) সংগ্রহ করা।

মাসুমের সাথে আলোচনা করে শিকারকে সুবিধামত সাধুর মোড়, বিনোদপুর, শিরোইল বা নওদাপাড়া এলাকার ডিসি শাহমখদুম কার্যালয়ের পিছন সাইডে একটি ফ্লাট বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। শিকারের পছন্দমত নারীকে দিয়ে রুমে মধ্যে মধুচন্দ্রিমায় পাঠিয়ে দেয়। তারপর বাইরে থেকে দিয়ে শিকল তুলে দিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের নাকট। এই সিন্ডিকেটে এক এক করে প্রবেশ করে আশিক, মুন্না ও সিজার নামের তিন ব্যক্তি। সিজার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেকে) চাকরি করে বলে জানিয়েছে একটি সুত্র।

প্রথমে শুরু হয় ভিডিও ধারণ তারপর কেড়ে নেয়া হয় শিকারের মোবাইল। সাথে শিকারের পরিবারের কাছে ফোন। চাওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। আর এ টাকা চলে আসে ওই সকল সিমে যে সিমগুলি আগের শিকারের কাছে কেড়ে নেয়া।
এ টাকা ক্যাশ করে ভাগ করা হয় রিনার অরফে রাণীর ফ্লাট বাড়িতে। তার বাড়ি ডিসি শাহমখদুম কার্যালয়ের পিছনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবা
রন চন্দ্র বর্মন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে, থানার প্রত্যেক অফিসারকে বলে দেয়া হয়েছে। এসব ফিটিংবাজদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email