রাজনৈতিক অবক্ষয় ও নেতৃত্ব সংকট

প্রকাশিত: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

নূর আলমগীর অনু

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর পদ-পদবী হতে শুরু করে দল ও সরকারের সকল ক্ষেত্রে হাইব্রীডরা এগিয়ে। এবং প্রচারবিমুখ হয়ে পড়েছে ত্যাগীরা। রাজনৈতিক দলগুলোর এমন অবক্ষয় ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অশনি সংকেত বয়ে আনতে পারে। রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন, কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের করাল গ্রাসে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার হুমকীর মুখে পড়তে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারনে রাজনীতি এখন রাজনৈতিকবিদদের হাতে নেই, রাজনীতি এখন ব্যবসায়ী ও আমলাদের কবলে বন্দী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উক্তিতে তিনি বলেছিলেন- অদক্ষ ও অযোগ্য নেতৃত্বের পিছনে দেশের উন্নয়নে নামতে নেই। এতে উন্নয়নের চেয়ে দেশেরই ক্ষতি বেশি হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগীরা প্রচারবিমুখতার কারনে রাজনীতে অবাধে প্রবেশ করছে দূর্বৃত্তায়নকারী। এদের দিয়ে দল বা দেশের মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভবনাই বেশি। সম্প্রতি সরকারের ক্যাসিনো অভিযানে এমন চরিত্রই ফুটে উঠেছে। সরকারের এ অভিযান দেশবাসির কাছে ব্যাপক সারা ফেললেও অপরদিকে দেশের জনগনের ধারনা যে কোন সময় থমকে যেতে পারে এ অভিযান।কারন দূর্বৃত্তায়নে আশ্রয়দাদা, মদদদাতাদের অতিক্রম করে চলমান অভিযান পরিচালনা করা সরকারের পক্ষে একটি চ্যালেন্জ বলে মনে করা হচ্ছে। কারন দেশের সকল অন্যায়, ও দূর্নীতির পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের মদদ। রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারনে, দক্ষ, সৎ, ত্যাগীরা রাজনীতি হতে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার কারনে দিনে দিনে এসব বেড়ে চলেছে।

আমরা যদি বিশ্লেষন করি তাহলে সম্প্রতি কিছুদিন পুর্বে বিরোধী দলীয়নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টার একজন এনাম আহমেদ চৌধুরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছেন। কিছুদিন পুর্বে দেশের পত্র-পত্রিকাগুলো দেখা গেছে আঃ লীগের সহ সম্পাদক পদগুলোতে অর্থের বিনিময়ে জামাত -বিএনপির অনেকেরই অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধেও তেমন কোন তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর এর ছোঁয়া গ্রামগঞ্জেও পড়েছে বলে মনে করা হয়।

দেশে অনেক ত্যাগী, দক্ষ, সৎ রাজনৈতিক কর্মী থাকার পর ও স্থানীয় এমপি, মন্ত্রীরা নিজেদের গ্রুপ ভারী করতে অবাধে জামাত – বিএনপির কর্মীদের অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে ত্যাগীদের কোনঠাসা করে রাখছেন। শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা, প্রভাব কে জিইয়ে রাখতে দেশব্যাপী সকল তৃনমুল, ত্যাগী,সৎ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটুক এটা তাদের কাম্য নয়। এমনি পরিস্থিতিতে চলছে দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা ছেড়ে রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করছে। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের সকল গণঅভ্যুত্থানে সফল নেতৃত্ব দিয়েছে দেশের ছাত্র সংগঠনগুলো। ছাত্রসংগঠনগুলো থেকে ছাত্র নেতৃত্বে সঠিক বিকাশ ঘটছে না। এসব কারণে আজ দেশে ছাত্র রাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি প্রবেশ পথ বন্ধ হতে চলেছে। অকালে জড়িয়ে পড়ছে অনেক ছাত্রনেতা। কালোটাকা পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন কে মোকাবেলা করে নিজেদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে পারছে না। তাই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আর কথায় এখন তৃনমুল কর্মীরা আস্থা রাখতে পারছে না। দিনে দিনে সন্দেহের তীর তৈরী করছে। এভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি চলতে থাকলে এদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধংব্স হতে পারে। একসময় সাধারন জনগণ রাজনীতিবিদদের কথাকে তুচ্ছ- তাচ্ছিল্য মনে করবে। বাংলাদেশের রাজনীতিক ও গণতান্ত্রিকধারা ব্যাহত হবে। এ সময় দেশের মানুষের কাছে ভোট ছিল উৎসব। এখন আর ভোটারধিকার প্রয়োগকে কেউ উৎসব মনে করে না। একটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি হুমকিস্বরুপ।

এখনি আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সজাগ হতে হবে। দেশের রাজনৈতিক ক্যালচার কে সঠিক পথে ধাবিত করতে হবে। নয়তো অদুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নেতৃত্বশুন্য হতে পারে। দেখা দিতে পারে নেতৃত্ব সংকট।

নূর আলমগীর অনু, লেখক, সংবাদকর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Print Friendly, PDF & Email