বঙ্গবন্ধু গ্রীণ ক্যাম্পাস” এর এক বছর পূর্ণ

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২১
আশিকুর রহমান সবুজ:শ্রীপুরে উপজেলার হাজ্বী আব্দুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদ সবুজে মোড়ানো,ছাদে সাজানো আছে সারি সারি টব। টবের গাছের ডালে  নানা প্রজাতির ফুল, ফল আর সবজির সমাহার। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ নানা প্রজাতি ফুল ফুটে নান্দনিক হয়ে উঠেছে পুরো ছাদ। ফুলের সুগন্ধি,সৌন্দর্যের পাশাপাশি টবের গাছে  আম, জাম,কাঁঠাল, আপেল, আঙুর, মাল্টা, লেবু, কমলা ও জাম্বুরার সহ বিদেশি ফলের সমাহার। ঔষধি জাতের ঘৃতকুমারী , তুলসী, পুদিনাপাতা, পাথরকুচি, কুরিয়ান জিনসেং, সাদা লজ্জাবতি, অশ্বগন্ধা ও ননিফল গাছও রয়েছে এই নান্দনিক ছাদ বাগানে। আর ছাদের চার পাশে  রয়েছে, লেটোস পাতা, ব্রুকলি, চেরি টমেটো, জুকিনিসহ  লতাপাতার অনেক গাছ। দেশীয় জাতের পাশাপাশি ভিন্ন দেশের পার্সিমন, করসোল, অ্যভোকাডো, প্যাশন ফ্রুট, পেপিনো মেলন, স্ট্রবেরি পেয়ারাসহ একাধিক বিদেশি জাতের অচেনা ফল দেখে আগত দর্শনার্থীদের রীতিমতো নজর কেরেছে বঙ্গবন্ধু গ্রীন ক্যাম্পাসে। স্কুলের ছাদে যে নান্দনিক বাগান করা সম্ভব, সেটি প্রমাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার হাজী আব্দুল কাদের প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন।
সরেজমিনে জানা যায়, কয়েক জাতের ফল ও ফুলের চারা লাগিয়ে শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন কর্মস্থল বিদ্যালয়ের ছাদ বাগানটি শুরু করেন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে,তাই ছাদ বাগানটির নাম দেওয়া হয়েছে “বঙ্গবন্ধু গ্রীণ ক্যাম্পাস”।বর্তমানে ৮৫ জাতের হাজারো ফল, ফুল, ঔষুধি, শাক-সবজি ও বাহারি গাছের প্রাকৃতিক সমারোহে পরিপূর্ন করে তুলেছেন শখের বাগানটিতে। সেই সাথে শোভাবর্ধন করছে বিভিন্ন পাতা বাহারের গাছ। আর স্কুলের ছাদে এমন বাগানের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে প্রকৃতি প্রেমী ও উৎসাহী মানুষজন।
করোনা কালীন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ছুটি থাকায় নিজের হাতে গড়া বাগানটি পরিচর্যায় দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের সাথে বাগানে বসে স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা সহ জরুরি মিটিং হয়। কিছুদিন আগে শখের বশে বিদ্যালয়ের ছাদে কয়েকটি গাছের চারা দিয়ে বাগান শুরু করি। প্রকৃতির সান্নিধ্য আমাকে অনেক বেশী উৎসাহী  করে। প্রতিমাসে বেতনের একটি অংশ দিয়ে বাগানটিতে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা লাগাতে থাকি। একসময় ফুল-ফল ও বিভিন্ন জাতের গাছে ছাদ বাগানটি ভরপুর হয়ে গেল। এখন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও প্রকৃতি প্রেমী হয়ে ওঠছে। অনেকেই চারা সংগ্রহ করে নিজেদের বাড়িতে বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছে । এটাই আমার আনন্দ। তিনি আরও বলেন, এখানে এমন অনেক গাছ রয়েছে যেগুলো আমাদের অনেকেই শুধুমাত্র বইপুস্তকে পড়েছে, যা এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে । দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে বাগান থাকলে, ছাত্র-ছাত্রীদের গাছ লাগানোর আগ্রহ বেড়ে যাবে। আর এতে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান,এমন প্রকৃতির মাঝে পড়াশুনা করতে ভালোই লাগবে। তারা আরো জানান, স্যারের বাগান দেখে বিভিন্ন স্থান থেকে গাছের চারা নিয়ে আমরা বাড়ীতে বাগান করেছি।  পাশাপাশি প্রতিদিন অনেক অভিভাবকরা ছাদ বাগান দেখতে বিদ্যালয়ে আসছেন। সবুজ এই ক্যাম্পাস দেখতে প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকজন আসছেন। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এসে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছেন।
Print Friendly, PDF & Email