গুরুদাসপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালকুর

প্রকাশিত: ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

মেহেদী হাসান তানিম, গুরুদাসপুর(নাটোর) থেকে

নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন হাঁটবাজারে জমে উঠেছে লোভনীয় ফল তালের শাঁস। সেই সাথে বিক্রির ধুম। স্কুল, কলেজ ছাত্র-ছাত্রী আবালবৃদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের প্রিয় তালশাঁস।

কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জৈষ্ঠ্যের ভ্যাপসা গরমে শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এ ফলটি। সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় এসময় বিভিন্ন বয়সী, শ্রেণী পেশার মানুষের এ সময়ের পছন্দের ফল তালশাঁস। 

সুত্রমতে, বাংলাদেশের সর্বত্র তালগাছ দেখা যায়। তালগাছ শাখা-প্রশাখা বিহীন একবীজপত্রী উদ্ভিদ। তালগাছ বাড়ির আনাচে-কানাচে, পুকুর পাড়ে, নদীর ধারে, পরিত্যক্ত স্থানে বেশি দেখা যায়। তবে দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে তালগাছ। তালগাছ কিন্তু দীর্ঘজীবী। পৃথিবীর বহু দেশে তালগাছ আছে। এই গাছ কমবেশি শতবছর বাঁচে। তালগাছের প্রতিটি অংশই আমাদের প্রয়োজনীয়। পাতায় ঘরের ছাউনি, জ্বালানি, গরমের বন্ধু হাত পাখা, পাতার ডগার আঁশ দিয়ে মাছ ধরার নানা যন্ত্র তৈরির উপকরণের যোগানদার এই তালগাছ। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানির বিখ্যাত টুপি এই তালের আঁশ দিয়েই তৈরি। তালের রস, তালের গুড়, কচি তালের শাঁস, পাকা তাল, তালের পিঠা, পাকা তালের বিচির শাঁস এরসবই অত্যন্ত মজার ও উপাদেয় খাবার। আর তাল এর দীর্ঘজীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই ফল দেয়।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র শাহরিয়ার স্বদেশ বলেন, তাল যখন কাঁচা থাকে, তখনো খাওয়া যায়, তখন বাজারে এটি পানি-তাল হিসেবেই বিক্রি হয়। কেউ বলে তালশাঁস আবার কেউ বলে তালের চোখ, কেউ বলে তালকোরা। যে যেই নামে চিনুক বা জানুক এটি মৌসুমি ফল। মধুমাস জ্যৈষ্ঠ্যতে বিভিন্ন ফলের সঙ্গে এই ফলেরও কদর বাড়ে। খেতে সুস্বাদু ফলটি রাস্তার মোড়ে, ফুটপাতে কিংবা হাট-বাজারে এ সময়টায় বিক্রি হয়। অনেকে বিক্রির জন্য এই কচি তাল বাজারে তুলেছেন। আর চোখে পড়ে বিক্রেতারা হাঁসুয়া বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাল কেটে তালের শাঁস বের করছে।উপজেলা সদরের চাঁচকৈর বাজারে তালশাঁস বিক্রেতা হাসান আলী জানান, প্রতিটি তাল ৫ থেকে ১০ টাকা বেচাকেনা হয়। প্রতিটি তালের পাইকারি দাম ৪টাকা থেকে ৬ টাকা। সে হিসাবে প্রতি গাছের তাল ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়।

গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান জানান, বাজারে আসা অসংখ্য ফলের চেয়ে তালশাঁসের বৈশিষ্ট্য আলাদা। একটি তালে ২-৩টি বীজ বা আঁটি থাকে। পরিপক্ব হওয়ার আগে সুস্বাদু তালশাঁস তুলতুলে থাকে। মূলত তালের ভেতরে নরম তুলতুলে শাঁসই তালকোরা বা তালশাঁস। এটি ঠান্ডা ও মিষ্টি জাতীয় সুস্বাদু খাবার। সব বয়সের মানুষের কাছে প্রিয়। গরমের দিনে পিপাসা কাতর পথিকের তৃষ্ণা মেটায় তালের শাঁস । তালের শাঁস শরীর শীতল করা একটি অতি সুস্বাদু উপকরণ।

তাল বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবার কাছে প্রিয় তালশাঁস। আবার মৌসুমি ফল বলে শখের বশেই অনেকে এটি খায়। দামেও বেশ সস্তা। তাই বাজারে এর কদরও বেশি। পাড়া মহল্লায় ভ্যানে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email