করোনায় ক্ষতির সম্মুখীন হাট ইজারদাররা, ইজারা মওকুফ বা মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক-

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়  জনসমাগম এড়াতে সরকার ঘোষিত বিধি নিষেধ ও লকডাউনে ক্ষতির  সম্মুখীন হচ্ছেন সারাদেশের হাটবাজার  ইজারাদাররা। হাট ইজারাদাররা নিজেদের ক্ষতি দাবি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিধি নিষেধ ও লকডাউন চলাকালীন সময়কাল ইজারা মূল্য মওকুফ বা মেয়াদ বাড়ানো অথবা ক্ষতির কথা বিবেচনা করে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। 

৬ই জুলাই ( মঙ্গলবার) লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার  আওতাধীন হাট-বাজার ঘুরে  হাট-বাজার ইজারাদার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে,  করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ লকডাউনে তারা সর্বোচ্চ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এবং হাট বাজারগুলো জনশুন‌্য হয়ে পড়েছে।

 হাট বাজার ইজারাদারদের  দাবি, আমরা এক বছরের জন্য কেউ লক্ষ লক্ষ টাকা বা কেউ কোটি টাকার বিনিময়ে হাট-বাজার ইজারা নিয়েছি । হাটগুলোতে সপ্তাহে দুদিন হাট বসে থাকে।  সে অনুপাতে আমরা এক বছরে ৫২ সপ্তাহে ১০৪ টি হাট পেয়ে থাকি। এরমধ্যে আমাদের দেশে বর্ষাকাল প্রায় চার মাস স্থায়িত্ব লাভ করে।  এই বর্ষাকালে আমাদের এমনিতেই লোকসান গুনতে হয়।  এর ওপর আমাদের ঘাড়ে এসে বসেছে মরার উপর খরার ঘাঁ  মহামারী করোনাভাইরাস।  আর এই করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার বিধি নিষেধ ও লকডাউন ঘোষণা করায়  হাট-বাজারগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে। হাট-বাজার জনশূন্য হয়ে পড়ায়  আমরা ইজারাদাররা লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তাই ক করোনাকালীন সময়ে কাল আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ইজারা মূল্য মওকুফ, মেয়াদ বাড়ানো অথবা এই সময়  ক্ষতির জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ দাবি জানাচ্ছি।

 

উপজেলার আরেকটি বড় হাট শিয়াল খাওয়া হাটের ইজারাদার, শিয়ালখাওয়া  স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক  মমিনুর রহমান জানান,  বিধি নিষেধ ও লকডাউনের এই সময়ে প্রতিহাটে কমপক্ষে ৭০/৮০ হাজার টাকা আমরা  ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।  আমরা যখন হাট ইজারা গ্রহণ করি তখন আমাদেরকে ইজারার  সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে হাটের ইজারা গ্রহণ করতে হয়।  একদিকে সরকার আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন,  অপরদিকে করোনার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি সেদিকে সরকারের কোন নজর নেই।  হাট বাজার বন্ধ থাকার কারণে  শিয়াল খাওয়া হাটের ৫০ জন কর্মী  কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।  শুধু তাই নয় এই হাটের লভ্যাংশের টাকা স্থানীয় স্কুল কলেজ মন্দির মাদ্রাসায় একটি অংশ প্রদান করা হতো। হাট  বন্ধ থাকায় এ টাকা  আর কেউ পাচ্ছেন না।  বিগত বছর হাট ইজারা নিয়ে আমরা কমিটি কতৃপক্ষ অনেক লোকসান গুনেছি।  আমরা  উপজেলার তৎকালীন ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন জানিয়েছিলেন তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হয়নি। আমার দাবি হচ্ছে  হাট যদি বন্ধ থাকে তাহলে যে সময়কাল হাট বন্ধ থাকবে তার ইজারার টাকা মওকুফ করে দেওয়া হোক   অথবা যতদিন হাট বন্ধ থাকবে ততদিন ইজারার  সময় বৃদ্ধি করে দেয়া হোক। 

 মমিনুর রহমান আরো বলেন, আপনারা জানেন সারাদেশে ঈদুল আজহায় আমরা হাট ইজারাদাররা সারা বছরের  কিছুটা ক্ষতির  হাত হতে  বাঁচতে পারি কিন্ত এ বছর  এ সময়  হাট বন্ধ ।আমরা তো  যে ক্ষতির মুখে পড়েছি তা  পূরণ হবার নয়।

এ বিষয়ে  কাকিনা হাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের পক্ষে  হুমায়ুন কবীর  বাবু বলেন, প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি এক বছরের জন্য। হাট ইজারাদার হিসেবে এ বছরে আমরা প্রথম। আর  এ বছরেই আমরা  বিধি নিষেধ ও লকডাউন এর কবলে পড়েছি। প্রতিহাটে  ৬০ হাজার টাকার মত  লোকসান দিতে হচ্ছে।  এ ক্ষতি আমরা কিভাবে পুরন করব। এতে ৫৫ জন শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছে।  সরকার কি দিবেন আমাদের এ ক্ষতি পুরন।

এমনিভাবে একই কথা জানালেন , ভুল্ল‌্যারহাট ও চামটারহাট ইজারাদারসহ উপজেলার সকল হাট বাজার ইজারাদাররা।

উল্লেখ‌্য যে, বিগত বছর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে  ইজারাদারদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদনগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলা ১৪২৬ সালের ইজারা দেওয়া হাট-বাজারগুলোতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বেচাকেনা বন্ধ থাকায় ইজারা মূল্য মওকুফ/সমন্বয়/স্থগিত/ক্ষতিপূরণ/মেয়াদ বৃদ্ধি/আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত প্রাপ্ত আবেদন/বিবেচ্যপত্রের বিষয় সরেজমিনে যাচাই করে ‘সরকারি হাট-বাজারের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও তা থেকে প্রাপ্ত আয় বণ্টন সম্পর্কিত নীতিমালা’ অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লালমনিরহাট জেলায় অনেকে আবেদন করেও কোন সুফল পাননি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো: আবু জাফর বলেন, এ বিষয়ে সরকারী সিধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব‌্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ইজারার মাত্র ২/৩ মাস হলো এখনও সারাবছর পড়ে আছে, বছর শেষে ইজারাদার রা বলতে পারবেন তাদের লাভ হলো নাকি লোকসান হলো।  তার ্তআগে সুযোগ নেই। এছাড়াও কুরবানীর আগে তো তারা ২/১ টি হাট করার সুযোগ পাবেন।

 

Print Friendly, PDF & Email