মানবিক ও সফল উপজেলা চেয়ারম্যান- মাহবুবুজ্জামান আহমেদ

প্রকাশিত: ৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধি-

মাহবুবুজ্জামান আহমেদ,বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ কালীগঞ্জ লালমনিরহাট। পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬নং সেক্টরের অন্যতম সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ। মাতা নুরজাহান বেগম। তিনি উপজেলার কাশীরাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাহবুবুজ্জামান আহমেদ একনাগাড়ে ১৯৯৪ -২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ২১ বছর ৩নং তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করে লালমনিরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৪ ও ২০১৯ সালে তিনি পরপর দুবার কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সর্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে হয়ে একজন মানবিক ও সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন । উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সফলতার জন্য তিনি রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব, শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় অর্জন করেন প্রাথমিক শিক্ষা পদক। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শুধু সফলতা অর্জন করেননি তিনি সফলতা অর্জন করেছেন একজন ব্যবসায়ী ও মৎস্যচাষী হিসেবেও।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তৃণমূল সাধারণ মানুষের সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় আত্মার সম্পর্ক। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও উচ্চ বিলাসী মনোভাপন্ন না হয়ে সাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ার কারণে সর্বস্তরের মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী সকলের নিকট তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার যেন নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড। রাজনৈতিক জীবনে পারিবারিকভাবে তাহার রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটলেও মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু করেন তাঁর রাজনৈতিক পথচলা। এরপর১৯৮২ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি,১৯৮৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ১৯৯১ সালে আইন বিষয়ক সম্পাদক,১৯৯৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ সালে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৮ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার পর এবছর তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

কোভিড-১৯ মোকাবেলা জনসচেতনতা ও সহায়তা

দেশের করোনা মহামারীর ক্রান্তিকালে মানুষ যখন দিশেহারা লকডাউন এর কারণে যখন মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন ,যখন মানুষকে চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকরাও আরেকটা হয়ে থাকতেন ঠিক তখনি মাহবুবুজ্জামান আহমেদ সাধারণ মানুষের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন। সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসকরা যাতে নির্ভয়ে মানুষের সেবা দিতে পারেন এজন্য মাহবুবুজ্জামান আহমেদ সর্বপ্রথম কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মাঝে পিপিই, হেক্সিসল, মাস্ক প্রদান করেন। শুধু তাই নয় একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েও তিনি গাড়িতে ঘুরে না বেরিয়ে রাস্তায় পথের মধ্যে নেমে নেমে হেঁটে হেঁটে তিনি মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে মাক্স বিতরণ এ রাস্তায় নেমে পড়েন। খাদ্য সহায়তা নিয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন অসহায় কর্মহীন মানুষের প্রতি। তিনি বিতরণ করেন খাদ্য সহায়তা।

এমনকি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যখন কলনা আক্রান্ত রোগীদের মাঝে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় সে সময়ও তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ অক্সিজেন চাহিদা মেটাতে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন অক্সিজেন মেশিন। মানুষকে করোনা মুক্ত রাখতে মানুষ যাতে বেশি করে যেখানে সেখানে হাত বুলিয়ে নিতে পারেন এজন্য তিনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম কোন এলাকায় গুলোতে নিয়েছেন হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। তার করোনা মোকাবেলায় নানারকম কর্মকাণ্ডে দেশের করোনা মোকাবেলায় তাকে একজন সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা বলা যেতে পারে।

একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব

মানবিকতায় মাহবুবুজ্জামান আহমেদ একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব রূপে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। গতবছর শীতকালে তিনি একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েও সাধারণ মানুষের দুঃখ দূর্দশায় পাশে দাড়ানোর জন্য তিনি রাতে মানুষ ঘুমিয়ে তখন তিনি একজন ফেরিওয়ালার সেজে মানুষের দ্বারে দ্বারে উপস্থিত হয়েছিলেন শীতবস্ত্র হাতে নিয়ে। তারা ভ্যানে চড়ে রাতের আধারে কম্বল নিয়ে যাওয়ার এ দৃশ্য টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যথেষ্ট ভাইরাল হয়ে পড়েছিল।

মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ শুধু একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তি নন তিনি একজন সাংস্কৃতিক ,ক্রীয়ামোদি ও মিডিয়াবান্ধন ব্যক্তিত্ব রুপে মানুষের মাঝে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন। সাংস্কৃতিক ও ক্রীয়া অঙ্গনেও তিনি উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী বিভিন্ন সংগঠন কে প্রদানের মাধ্যমে সব সময় উৎসাহ উদ্দিপনা যোগায় থাকেন। উদ্দীপনা যুগের একজন উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি উপজেলার বিভিন্ন অসহায় অসুস্থ মানুষ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে অর্থ সহায়তার মাধ্যমে এ সকল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তার উপজেলা পরিষদের এমন কোনো দিন নেই যে ১০/২০ জন মানুষ তার কাছে সহায়তা নিতে আসেন না। এমনটা খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়ে।

মাহমুদুজ্জামান আহমেদ-এর মানবিকতা ও অসাধারণ মানবিক গুণাবলির কারণে সমাজের এই সকল সাধারণ মানুষ সহজেই তার উপজেলা পরিষদে এসে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। উপজেলা পরিষদের দরজা তিনি সবার জন‌্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের সঙ্গে কাজ করতে করতে তাদের সঙ্গে যেন তার একটা আত্মার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এজন্য কুলি থেকে মজুর সর্বশ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন মাহবুবুজ্জামান আহমেদ।

 শিক্ষার মান ও নারী শিক্ষার প্রসারে-

 শিক্ষা মান উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ অগ্রণী ভুমিকা রেখে কাজ করে চলেছেন।  তিনি উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  নিজ নজরদারির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠদানে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্লক নির্মাণ,  শ্রেণিকক্ষ বর্ধিতকরণ,  ওয়াশরুম নির্মাণ,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুজিব কর্নার নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের  পাঠদানে পযাপ্ত সিট  নিশ্চিতকরণ  ব্রেঞ্চ প্রদান সহ  নানারকম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তিনি অবদান রেখে চলেছেন।  এছাড়াও তিনি তার উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান,  মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার মান ও নারী শিক্ষা প্রসারে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ এর এ সকল কর্মকান্ড বেশ  প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

Print Friendly, PDF & Email