জবি নতুন ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের বিক্ষোভ 

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২১
ইয়াছির আরাফাত সবুজ ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,
স্বাধীনতার অপশক্তি, দূর্নিতিবাজ ও নতুন ক্যাম্পাসের ৫৪১ কোটি টাকার গড়মিলের তদন্ত চেয়ে  বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার (২৯ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে ভিসি ভবনের সামনে মিছিল শেষ করেন।
এসময় তারা ভিসি ভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের দূর্ণীতি অনিয়ম ও অর্থলোপাটের তদন্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট আবেদন জানান। এসময় তারা স্লোগানে বলেন ৫৪১ কোটি টাকা গেলো কই? বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা কার পকেটে? আমাদের টাকা গেলো কই?
জানা যায়, ২৮ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস ঘিরে দূর্নীতি অনিয়ম ও ৫৪১ কোটি টাকা গড়মিল নিয়ে সমকালে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়,  ২০১৬ সালের আগস্টে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কেরানীগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণা দেন।
এরপর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু ১৮৮ একর জায়গা অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। এ কাজটিও শেষ হয়নি, অধিগ্রহণ করতে হবে ২০০ একর জমি। মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি, নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যানের কাজ নির্দিষ্ট কোম্পানিকে দেওয়ার পাঁয়তারায় বড় ধরনের অনিয়ম এবং সর্বশেষ করোনাকালীন সংকটে কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
 ২০১৯ সালে ৮৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্যাম্পাসের জন্য ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ১৪৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫৪১ কোটি টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তা জানাতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা।
এছাড়া, জবির নতুন ক্যাম্পাসের মহাপরিকল্পনার বাজেটে প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।একই সাথে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিশাল অঙ্কের টাকা গড়মিলের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
Print Friendly, PDF & Email