তানোরে আ’লীগের বর্ধিত সভায় দু পক্ষের হামলা, ভাংচুর

প্রকাশিত: ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২১
সৈয়দ মাহামুদ শাওন, তানোর -রাজশাহী  : তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় হামলার চেষ্টা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি চেষ্টা চালিয়ে একটি পক্ষ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা এ হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তারা পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আগামী ১১ই নভেম্বর তানোর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার উপজেলা আ’ লীগের বর্ধিত সভার শুরুতেই এ ঘটনা ঘটে। মঞ্চের চেয়ারে বসা নিয়ে এ ঘটনায় অডিটরিয়ামের শতাধিক চেয়ার টেবিল ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়ে তানোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তালন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।
আহতরা হলেন, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তালন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, তানোর পৌর যুবলীগের সদস্য রবিউল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, ডিটল, পাঁচন্দর ইউনিয়নের ইলামদহী গ্রামের যুবলীগ কর্মী রাসেল, প্রকাশনগর গ্রামের আ’লীগ কর্মী রয়েল, তালন্দ এলাকার আ’লীগ কর্মী সম্মু নাথ দাস, হাবিবুর রহমান, প্রকাশনগর এলাকার আ’লীগ কর্মী কাউসার আলী, যুবলীগ কর্মী নাদের আলী, আবজাল হোসেন, হায়াত আলী, সাদেকুল আ’লীগ কর্মী, ছাত্রলীগ কর্মী শুভ।
জানা গেছে, ১১ নভেম্বর তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকালে ৪ টায় তানোর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ারে বর্ধিত সভার আয়োজন করেন জেলা আওয়ামী লীগ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এসএম একরামুল হককে। প্রধান অতিথি ছিলেন। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে প্রধান অতিথি আসার আগেই মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে তানোর উপজেলা আ’ লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমর্থকরা হামলা চালায় এসময় তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার সমর্থকরা তাদের থামানোর চেষ্টা করলে মামুন গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা চেয়ার ভাঙচুর শুরু করে।
পরে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মি সমর্থকরা ছত্রভংঙ্গ হয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাংসদ আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসার পর পরিচ্ছন্ন ভাবে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ধিত সভায় জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এসএম একরামুল হকের সভাপতিত্বে ্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শরিফ খান, খাদেমুল হক চৌধুরী, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিত সম্পাদক আব্দুর সামাদ, আলফোর রহমান, আসাদুজ্জাজামান আসাদ, জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী মর্জিনা পারভীন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না প্রমুখ। বর্ধিত সভায় জেলা আ’ লীগ নেতাদের কাছে ৭ টি ইউনিয়নের ৩১ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের বাইয়োডাটা জমা দেন। সভা চলাকালীন সময় উপজেলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।
তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, থানায় কোন পক্ষের লোকজন কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি আমরা আমাদের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।
তনোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না জানানা, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা বর্ধিত সভা পন্ড করার জন্য পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা আগে থেকে পরিকল্পনা করে মঞ্চে এসেই চেয়ার দখল শুরু করে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে তারা চেয়ার ভাঙচুর শুরু করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধূরী বলেন, আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় েেনতাকর্মী বিচ্ছিন্ন একপি পক্ষ নানা পরিকল্পনা করছে। দলে বিশৃঙ্খলাকারীরা দলে কোনঠাসায় থাকবে । তারা জোর করে আওয়ামী লীগের সভা পন্ড করতে চায়। তবে নেতাকর্মীরা তাদের সে চেষ্টা ব্যার্থ করে দিয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email