নীলফামারীর একজন নারী উদ্যোক্তা রঙ্গিন মাছের চাষ করে স্বাবলম্বী 

প্রকাশিত: ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২১
সোহেল রানা ,নীলফামারীঃ
নানান জাতের বর্ণিল মাছ হ্যাচারী হাউজের স্বচ্ছ পানিতে মেতেছে খেলায়। দল বেধে সাঁতার কাটার এ দৃশ্য ছুয়ে যায় মন। শখের বশে শোভা বর্ধনকারী এ জাতের ২০/২৫টি মাছ এ্যাকোরিয়ামে চাষ হলেও এখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে পুকুরের মিঠা পানিতে। রেনু থেকে মাত্র ৯০দিনের মধ্যে বাজারজাত করে সফলতা বয়ে এনেছেন নীলফামারীর একজন নারী উদ্যোক্তা। দিন দিন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাট, বগুড়া, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ক্রেতা আর ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে খানিজার রয়েছে প্রায় ৬লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ২০টি প্রজাতির রঙ্গিন মাছ। ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এই মাছ রপ্তানির টার্গেট রয়েছে তার।
হ্যাচারী হাউজের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কেটে খেলা করছে বাহারী রঙের মাছ। এ যেনো নানা রঙের মাছের ছড়াছড়ি। গোল্ড ফিস, রেড কার্প, কই কার্প, সিল্কি, বøাক মোড়, মোলি, কমেট, গোড়ামী, ফাইটার প্রভৃতি বর্ণিল মাছ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। সৌখিন মানুষ বাসা বাড়ির সোভা বর্ধনে এই সব মাছ রাখেন এ্যাকোরিয়ামে। সেই মাছ চাষ হচ্ছে নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নে সুনগর এলাকার পানির হাউজ ও পুকুরে। শখের বসে খাদিজা আক্তার নামের একজন নারী উদ্যোক্তা ২০১৯সালে ২০/২৫টি রঙ্গিন মাছের চাষ শুরু করেন। মাছের পেটে ডিম আসায় তা ক্লেভিংয়ের উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করছেন এসব রঙ্গিন মাছ। এ মাছ চাষ করে তিনি নিয়ে আনছেন সফলতা।
খাদিজা আক্তার বলেন, শখের বসে আমার বড় ছেলে ২০/২৫টি রঙ্গিন মাছ এনে দিয়েছিলো এ্যাকোরিয়ামের পোষার জন্য। কিছুদিন যাওয়ার পর দেখি যে মাছের পেটে ডিম আসছে। তখন আমি চিন্তা করি এই মাছ থেকে বংশ বিস্তার করা যায় কি না। তখন থেকেই এই উদ্যোগ। এখন এই মাছ পুকুরেও চাষ করতেছি। দূর দূরান্ত থেকে এখানে মাছ কেনার জন্য অনেকেই ছুটে আসছে।
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, যদিও শখের ছিলো, সেটা এখন বাণিজ্যিক পর্যায়ে গেছে। বর্তমানে আমার এখানে দৈনন্দিন ৫/৭ জন শ্রমিক কাজ করে। আমি চাই এটার ব্যাপ্তি ঘটিয়ে আরও বেকার মানুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
এবিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুজ্জান বলেন, পুরোপুরি আমদানি নির্ভর এখাতের অর্ধেকেরও বেশী চাহিদা পূরণ করছেন খাদিজার মতো উদ্যোক্তারা। এ মাছ এখন বাণিজ্যিক ভাবে পুকুরের পানিতে চাষ হচ্ছে। অনেক বেকার তরুনরা এ মাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
Print Friendly, PDF & Email