সবার প্রিয় মাই ব্রাদার নিউইয়র্কের খান শওকত: আজগর হোসেন

প্রকাশিত: ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আমেরিকার নিউইয়র্ক কম্যুনিটির “মাই ব্রাদার” নামে সকলের পরিচিত খান শওকত। তার প্রথম পরিচয় যাদুশিল্পী। ১৯৮৫ সালে ঢাকার শিশু একাডেমী মঞ্চে আত্মপ্রকাশের পর এপর্যন্ত বিরতীহীনভাবে তিনি ম্যাজিক শো করে চলেছেন। ঢাকার শান্তিনগর চৌরাস্তার মোড়ে ১৯৮৫ সালেই গড়ে তোলেন মডার্ন ম্যাজিক একাডেমী। ১৯৯০ সালে সেন্ট লুইসে বিশ্ব যাদু সম্মেলনে অংশগ্রহনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিউইয়র্কে বসবাস শুরু। সেই থেকে তিনি নিউইয়র্কে যাদু দেখিয়ে ভারত থেকে পেয়েছেন হেমন্তশ্রী পুরস্কার, নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার, অভ্যুদয় পুরস্কার, ডায়মন্ড বুক অব ওয়ার্লড রেকর্ড পুরস্কার। আর আমেরিকা থেকে পেয়েছেন ড: অব ম্যাজিক এবং মারলিন এ্যাওয়ার্ড। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে তার উদ্যোগে অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাজিক কম্পিটিশন ফেসবুক গ্রুপে শুরু হয়েছে বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতা। সেখানে প্রতিমাসে সারাবিশ্বের শতাধিক জাদুশিল্পী অংশগ্রহন করেন প্রতিমাসে। এ ধরনের নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন বিশ্ব ম্যাজিকে এটাই প্রথম। এবং কোন বাংলাদেশী জাদুশিল্পীর উদ্যোগে বা নেতৃত্বে বিশ্ব জাদু প্রতিযোগিতা পরিচালনা এটাও প্রথম। খান শওকত এ প্রতিযোগিতা কমিটির জুরী বোর্ডের প্রেসিডন্ট। এ প্রতিযোগিতাটি প্রতিমাসে অনুষ্ঠিত হয় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।
খান শওকতের আরেকটি পরিচয় নিউইয়র্কে জব সেমিনারের সফল রূপকার। তার উদ্যোগে ২০০২ সাল থেকে নিউইয়র্কে কম্যুনিটির সেবায় পরিচালিত হচ্ছে মাসিক জব সেমিনার। এপর্যন্ত ১৫০ টি সেমিনার সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার সেমিনারের মাধ্যমে কয়েক হাজার প্রবাসী সরকারি চাকুরী পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। তিনি এসব সেবামুলক কাজের জন্য কখনো কারো কাছ থেকে কোন অর্থ নেন না। এটা প্রবাসের সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
১৯৯০ সালে নিউইয়র্কে আসার পরই খান শওকত তৈরী করেন প্রবাসীদের জীবনভিত্তিক কাহিনী নিয়ে একটি ভিডিও চলচ্চিত্র ‘স্বপ্ন সুখের আমেরিকা’। ছবিটিতে সেই সময় ৩৩ জন শিল্পী ও কলাকুশলী কাজ করেছিলেন। ছবিটি ১৯৯৩ সালের ২৩ জুন তারিখে মুক্তি পেয়েছিলো ম্যানহাটানের ডি.সি.টি.ভি মিলনায়তনে। তার পরিচালনায় আবৃত্তির সিরিজ আমেরিকা থেকে বলছি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ পর্ব বের হয়েছিলো একসময়।
খান শওকতের আরেকটি পরিচয় তিনি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি নির্মান করেন ডকুমেন্টারী চলচ্চিত্র ‘কেন তিনি জাতির পিতা।’ এছবিটি মুক্তি পায় ৮/১৯/২০১১ তারিখে। ছবিটি ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলো। ঐতিহাসিক নাটক নবাব সিরাজউদ্দৌলা মঞ্চায়ন করতে প্রায় ৫০ জন শিল্পী প্রয়োজন হতো, এজন্য এতবেশী শিল্পী জোগাড়ের সমস্যায় এতো জনপ্রিয় নাটকটির মঞ্চায়ন তেমন দেখা যাচ্ছিলোনা। প্রবাসে তো এতোবড় নাট্যগোষ্ঠী আরো কঠিন কাজ। এজন্য তিনি রচনা করেন নতুন নাটক ‘বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা।’মাত্র ৮ জন শিল্পীকে দিয়ে ১৭টি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মঞ্চায়ন সম্ভব। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে নাটকটির ১৯টি প্রদর্শনী হয়েছে নিউইয়র্কে। ২০১৬ সালে তিনি প্রকাশ করলেন ঐতিহাসিক নাট্যগ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। গ্রন্থটি ঢাকার উত্তরাস্থ ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গৃহীত হয়।
কোলকাতার বরানগর স্রোত নাট্য একাডেমী প্রযোজিত, বঙ্গবন্ধু থিয়েটার এর সহযোগীতায়, উত্তর কোলকাতার সৃষ্টি ছাড়া নাট্যসংস্থা এবং বরানগর স্রোত নাট্য একাডেমীর যৌথ প্রয়াসে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে কোলকাতার “জ্ঞানমঞ্চে”(১১ প্রিটোরিয়া ষ্ট্রিট, কোলকাতা- ৭০০০৭১) -র অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হয় খান শওকত রচিত ঐতিহাসিক নাটক “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।” ইউটিউবে বঙ্গবন্ধু ড্রামা রিটেন বাই খান শওকত লিখে অথবা হ্যাপি ড্রিম অব আমেরিকা রিটেন বাই খান শওকত লিখে ভিডিওগুলো দেখতে পারেন।
২০২১-এর বই মেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ৩৫টা ঐতিহাসিক নাটক নিয়ে ঐতিহাসিক নাট্যগ্রন্থ “বঙ্গবন্ধু নাট্যসমগ্র”, ২০১৯ সালে ২১টি নাটক নিয়ে ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ এবং ৪টি ঐতিহাসিক নাটক নিয়ে ঐতিহাসিক নাট্যগ্রন্থ ‘আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া’ প্রকাশ হয়। তার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ নাট্যগ্রন্থঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব (২০১৬, গ্রন্থটি ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্য বিভাগে পাঠ্য পুস্তক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত), নাট্যগ্রন্থ ঃ বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা (২০১৫), গীতিনাট্য গ্র্রন্থঃ জাতির পিতা (২০১৩), কাব্যগ্রন্থঃ রাঙ্গাভাবী (২০১৩), কাব্যগ্রন্থঃ পরবাসীর প্রণাম (২০১০), কাব্যগ্রন্থঃ নিউইয়র্কের কাব্য (২০১০), কাব্যগ্রন্থঃ প্রেম দিওনা অস্ত্র দাও (২০০৫), কাব্যগ্রন্থঃ আমেরিকা থেকে বলছি (২০০৪), যাদু ও ম্যাজিক (১৯৯২), ডাকযোগে যাদু শিখুন (যাদু শিল্প), ছায়া ম্যাজিক (যাদু শিল্প), একটি ম্যাজিকের জন্য (পূর্নদৈর্ঘ্য মঞ্চ নাটক), অনেক অজানা কথা (যাদু বিষয়ক), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক),  কলঙ্কিত ‘৭৫ (১ দৃশ্যের নাটক), আমাদের বঙ্গবন্ধু (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), স্বাধীনতার ঘোষক(১ দৃশ্যের নাটক), বঙ্গবন্ধুর সামনে জিয়া (১ দৃশ্যের নাটক), মহামান্য রাষ্ট্রপতি (১ দৃশ্যের নাটক), মেজর ডালিম বলছি (১ দৃশ্যের নাটক), আমার বাড়ি টুঙ্গীপাড়া (১ দৃশ্যের নাটক), ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন (১ দৃশ্যের নাটক), মুজিবনগর থেকে মুক্তিযুদ্ধ (১ দৃশ্যের নাটক), হƒদয়ে বঙ্গবন্ধু (১ দৃশ্যের নাটক), বঙ্গবন্ধুর বাকশাল (১ দৃশ্যের নাটক), বাকশালী মোশতাক (১ দৃশ্যের নাটক), মোশতাকের তেলেসমাতি (১ দৃশ্যের নাটক), খুনী মোশতাক (১ দৃশ্যের নাটক), বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় বিদেশী শক্তি (১ দৃশ্যের নাটক), মোশতাকের ষড়যন্ত্র (১ দৃশ্যের নাটক), মুক্তিযুদ্ধে বিদেশীদের অবদান (১ দৃশ্যের নাটক), স্বাধীনতা তুমি (গীতিনাট্য), জনতার সংগ্রাম (গীতিনাট্য), বাংলাদেশের মাটি (গীতিনাট্য), ৭ই মার্চের ভাষণ (১ দৃশ্যের নাটক), বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), হানাদার (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), রক্তাক্ত ১৫ই আগষ্ট (১ দৃশ্যের নাটক), মুজিব হত্যা (২ দৃশ্যের নাটক), মুজিব হত্যার বিচার (২ দৃশ্যের নাটক), আসামীর কাঠগড়ায় মেজর ডালিম (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), আমরা তোমাদের ভুলবো না (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), জেল হত্যা (পূর্নদৈর্ঘ্য নাটক), আমার নেতা শেখ মুজিব (১ দৃশ্যের নাটক), শহীদ রাসেল (১ দৃশ্যের নাটক), বাকশাল নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জিয়া (১ দৃশ্যের নাটক) এবং আমার নাম শেখ মুজিব (১ দৃশ্যের নাটক)। প্রকাশিতব্য গ্রন্থের তালিকায় রয়েছে: যেভাবে ব্রিটিশ তাড়ালাম (পূর্নদৈর্ঘ্য মঞ্চনাটক), বাংলা কবিতার ডকুমেন্টারী (আবৃত্তির ১০০ কবিতা) এবং এনসাইক্লোপেডিয়া অব ম্যাজিক ইন বাংলাদেশ (যাদু বিষয়ক)। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্রের পান্ডুলিপিও তিনি জমা দিয়েছেন ঢাকার এফ.ডি.সি.তে, কোলকাতার টালিউডে এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট -এ। তিনি বঙ্গবন্ধু থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারন সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি, ওয়ার্লড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আমেরিকা কালচারাল সোসাইটির সভাপতি, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য একাডেমি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি, বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ ক্লাবের সভাপতি সহ অনেক সংগঠনের সাথে আছেন। তিনি ১৯৬০ সালের ২৮ জানুয়ারিতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাধীন শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি আমেরিকা প্রবাসী। তার জন্মস্থান হিসেবে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ২৩৭ টা গ্রামের শিল্পীদের মানোন্নয়ন ও বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার স্বপ্নে ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ আমেরিকা কালচারাল সোসাইটি নামক ফেসবুক গ্রুপে প্রতিমাসে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে সবার দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি সবার দোয়া প্রার্থী।
Print Friendly, PDF & Email