পাটগ্রামে বাল্য বিবাহের বলি হলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২১

 আবু রাসেল, লালমনিরহাট।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে রুজী খাতুন (১৯ ) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী মৃত্যু হয়েছে। বিয়ের প্রাপ্ত বয়সের পূর্বে তার বিয়ে হয়। সন্তান জন্মদানের পর থেকেই মেয়েটির গোপনাঙ্গে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত সোমবার ২২ (নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান পাটগ্রাম সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন রুজী খাতুন। শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী ছিল। ২০১৯ সালে পানবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৯ পেয়ে মাধ্যমিক ও সমমানর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। অভাব অনটনের সংসারে এক পর্যায়ে পাটগ্রাম উপজেলার ভেরভেরিরহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ সামিউল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ার ১৪ মাস পর সন্তান জন্ম দেয় রুজী খাতুন। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হলে রুজীর অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যায় সন্তান জন্মদানের ১৬ দিন পরই মৃত্য বরন করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী রুজী খাতুন। আজ ২৩ নভেম্বর সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নারীর প্রথম যৌন মিলনে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করে। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হলে রক্ত ক্ষরণ হতে পারে। এবিষয়ে একজন সমাজকর্মীর সাথে কথা বললে তিনি জানান: আমরা কি বাল্যবিবাহ রোধ করতে পারি? অবশ্যই পারি। এ ক্ষেত্রে বড় তিনটা সমস্যা আছে। সেটা সমাধানেরও উপায় রয়েছে। প্রথম সমস্যা দারিদ্র্য। দ্বিতীয় সমস্যা বখাটেদের উৎপাত। আরেকটা হচ্ছে অনেক অভিভাবক বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন নন। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতার ব্যবস্থা এবং বখাটেদের উৎপাত বন্ধের জন্য স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে মা ও সন্তান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। তাই অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email