লালমনিরহাটে হত দরিদ্র অসহায় মনজিলার স্বপ্নপূরনে পাশে দাঁড়ালো বাংলাদেশ পুলিশ

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০২১

হত দরিদ্র অসহায় মনজিলা  খাতুন। এই কনকনে শীতে করছেন একটি ঝুপড়ি ঘরে।  দারিদ্রতার কষাঘাতে চলছে তার জীবন সংগ্রাম।  তার থাকার মত  বাসস্থান টুকুও নেই।  স্বামী পরিত্যাক্তা মনজিলার নিজের কোনো জমি না থাকায় সে অন্যের জমিতে  ঝুপরি বানিয়ে বসবাস করে আসছে। তার এ অসহায় অবস্থা নজরে আসে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের।

মনজিলার অসহায় জীবন সংগ্রামের কথা জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা কে  অবগত করেন কালীগঞ্জ থানার মানবিক পুলিশ অফিসার ওসি এটিএম গোলাম রসূল। এর পরেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে মনজিলা খাতুন এর পাশে এসে দাঁড়ান বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তিনি মনজিলার স্বপ্ন পূরণে উপহার স্বরূপ একটি পাকা ঘর  নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন।

 ২৮শে ডিসেম্বর বিকেলে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ১নং  ভোটমারি ইউনিয়নের  চৌধুরীরহাট এলাকায় মনজিলাকে দেয়া আইজিপি বেনজির আহমেদের উপহার স্বরুপ পাকা ঘর নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কালিগঞ্জ থানার ওসি  এটিএম গোলাম রসুল। 

 বাংলাদেশ পুলিশের পাকাঘর পেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী আসকান আলী পাইকান এর মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা মনজিলার মুখে ফুটেছে হাসি।আনন্দের যেন কোনো কমতি নেই। জীবন দুঃখ-কষ্টে কাটছে, মানুষের জমিত ঘর করে থাকছি; বান-বর্ষায় বৃষ্টিত ভিজছি। কোনো দিন বাড়ি-ঘরের স্বপন ছিল না।

এখন জমিসহ সেমিপাকা ঘর পাছি। এখন নিজের জমি আছে, ঘর আছে। আইজিপি ঘর দিছে, ঘর পায়া খুব খুশি; খোদা তার ভাল করুক’- এভাবেই বলছিলেন -স্বামী পরিত্যাক্তা মনজিলা খাতুন। 

 

বাংলাদেশ পুলিশের এমন মানবিক কর্মকান্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় লোকজন মনে করেন,  বাংলাদেশ পুলিশ তার হারানো ভাবমূর্তি ফিরে পেয়েছে। দেশের কোভিড-১৯ ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে কাজ করেছে, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এতে করে  তারা যেমন প্রশংসার দাবি রাখে তেমনি তারা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।  দেশের মানুষ এখন বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকান্ড সন্তোষ প্রকাশ করছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি এটিএম গোলাম রসূল বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর করে অতি কষ্টে বসবাস করে আসছিল মনজিলা। বিষয়টি আমার নজরে আসে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদ মহোদয়  দেশের প্রতিটি থানা এলাকায় একজন করে দরিদ্র অসহায় ব্যক্তিকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই প্রকল্পে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নির্দেশনায় আমি কালিগঞ্জ থানা এলাকা হতে মনজিলা কে নির্বাচিত করে তার নাম উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করি।  সেই প্রকল্পে কালীগঞ্জে  মনজিলা  মনোনীত হয়েছেন।  সেই আলোকে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ও জেলা পুলিশ সুপার  আবিদা সুলতানা মহোদয়ের  নির্দেশনায মনজিলার পাকা ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। 

Print Friendly, PDF & Email