কোটি টাকার দুর্নীতি করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে অধ্যক্ষ মোস্তফা সাঈদ

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২২
জাহিদুল হক বাবু ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না বাজারে ১৯৯৯ সালে এলাকাবাসীর একান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় গান্না বাজার কলেজ(জিবি কলেজ)। একটি কলেজের ৪ কিলোমিটার দুরত্বের মধ্যে আর কোন কলেজ করার নিয়ম নেই এই নিয়মে তৎকালীন এমপি মশিউর রহমান বাগড়া দেন কলেজ প্রতিষ্ঠার। মাত্র আড়াই কিলোমিটার দুরত্বে ছিল এ এন্ড জে কলেজ। এই সময়ে মন্ত্রণালয়সহ দাপ্তরিক সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা নূর এ আলম সিদ্দিকী।
এলাকা থেকে ধান-চাল ও আর্থিক সহযোগিতা তুলে,চাকরি প্রত্যাশিদের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয় একটা টিনশেড ভবন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা কলেজের প্রভাষক মোস্তফা সাঈদ। তিনি ২০১০ সালে কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা কলেজ থেকে অবসর নিয়ে গান্না কলেজে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ নেন। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। ২০০৩ সালে সাবেক ছাত্রদল কর্মী মোস্তফা সাঈদ মশিউর রহমানের সাথে চুক্তি করে জিবি কলেজের নাম পরিবর্তন করে আলহাজ্ব মশিউর রহমান করে দেন। জনতা ব্যাংকের একাউন্টে  ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভুয়া জমা ও উত্তোলন চেকের মাধ্যমে অনুদান দেখিয়ে। ২০০৪ সাল থেকে এমপিওভুক্ত হয় এই কলেজটি। এই থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের টিউশন ফিস,সেশন চার্জ,ভর্তি ফিসসহ পাবলিক পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের অতিরিক্ত টাকা অধ্যক্ষ মোস্তফা সাঈদ একায় পকেটস্ত করে আসছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমপিওভুক্তির নামে ম্যানেজিং কমিটিতে রেখেছেন গান্না ও কুশনা ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের। সভাপতিও বানান তার হাতের পুতুল হয়ে থাকবে এমন কাউকে।বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ৪৫ জন শিক্ষক কর্মচারি। এমপিও ভুক্তির সময় সকল কর্মচারিদের কাছ থেকে জন প্রতি পদ অনুযায়ী ২-৬ লাখ টাকা করে নিয়েছেন।কলেজ ক্যাম্পাসে মোট জমি ১ একর ৮২ শতক। প্রতিষ্ঠার সময় এলাকার উন্নয়নের নাম করে নামে মাত্র মূল্যে জমি ক্রয় করে সেই জমিই পরে আকাশ ছোঁয়া দাম দেখিয়ে পকেটস্ত করেছেন আরও প্রায় পৌণে কোটি টাকা। মাধবপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন মিয়া জানান,কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় আমার কাছ থেকে ৩৩০০ টাকা করে শতক জমি কেনেন কলেজ কমিটি। আমার জমিই ছিল সব থেকে বেশি দামের। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও রেজিস্টারের সাথে কথা বলে জানাগেছে কিছু কিছু জমি প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা প্রতি শতক মূল্যে কেনা হয়েছে। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় কোটচাঁদপুরের হুন্ডি ব্যবসায়ী কাজল প্রায় ৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজলের পরিবর্তে দাতা সদস্য হয়েছেন অধ্যক্ষের বড় ভাই রওশন আলী। ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফর্ম ফিলাপের সময় নেওয়া অতিরিক্ত টাকা সংবাদ প্রকাশের পর ফেরত দিতে বাধ্য হন। ২০১৭ সালে কাতার ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান আমিরা ওয়ায়েস আব্দুর রহমান হাজ্বী,এতিম ও দুঃস্থ কল্যাণ ফাণ্ড থেকে একটি এতিম মসজিদ ও ২টি এতিম ভবন( ভবন নং-১৭৪০৫৯) নির্মাণ করে কলেজ ক্যাম্পাসে। সেই প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ৬৪-৬৫ লাখ টাকা। এই সময়ে কলজের ৪৫ জন শিক্ষক কর্মচারির কাছ থেকে জোর করে একমাসের বেতন কেটে রাখেন এই প্রকল্পে ব্যয় করার জন্য। তিনি অন্য শিক্ষক কর্মচারিদের কাছে বলেন দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে ৩২ লাখ টাকা দেবে বাকি টাকা আমাদের ম্যানেজ করতে হবে। তিনি তখন সকল কর্মচারিদের একমাসের বেতন কেটে রাখেন। এই বিল্ডিং করার কথা বলে গান্না এলাকা থেকেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়েছেন। ২০২২ সালে ম্যানেজিং মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি গোপনে নিজের ফুপাতো ভাইকে সভাপতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গোপনে তিনি বিদ্যুৎসায়ী সদস্য নির্বাচন করে বোর্ডে পাঠিয়েছেন।এই বিষয়ে অধ্যক্ষ মোস্তফা সাঈদের বক্তব্য জানতে মোবাইলে(০১৭১১২৮০২৯০) কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।  এই নিয়ে স্থানীয় লোকদের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। অধ্যক্ষ মোস্তফা কলেজ প্রতিষ্ঠার ২২ বছরে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। কিনেছেন ৬০-৭০ বিঘা জমি। এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশনে তার নামে অভিযোগ দিলেও কোন তদন্ত আসেনি। দুর্নীতি করলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন এই মহা দুর্নীতিবাজ।
Print Friendly, PDF & Email