লালমনিরহাটের হাটগুলোতে দ্বিগুন টোল আদায়, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২২

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার  হাটগুলোতে দ্বিগুন টোল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। হাট ইজারাদারগণ প্রভবশালী হওয়ার কারনে  গলাকাটা টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কোনরুপ প্রতিবাদ করতে পারেন না সাধারন  ভুক্তভোগী স্থানীয় মানুষ।

হাট- বাজার গুলোতে উপজেলার কৃষক ও গৃহস্থরা উৎপাদিত খাদ্য শষ্যসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত টোল মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন অতিরিক্ত অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে।

এতে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা এবং মাত্রাতিরিক্ত টোল আদায়কারী কর্মীদের অসদাচরণের শিকার হয়ে হাট বিমুখ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন অভিযোগ জেলার সকল হাট বাজার ইজারাদারদের বিরুদ্ধে থাকলেও দ্বিগুন টোল আদায়ের বিরুদ্ধে এবার জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চামটারহাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত টোলের  দ্বিগুন টোল আদায় ও অসদাচরন আচারনের বিরুদ্ধে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন খোদ উপজেলা প্রশাসনের মৎস্য অধিদপ্তরের একজন লিফ কর্মচারী মোঃ ফরিদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত ১১ মে আমি চামটার হাটে দুটি গরু ক্রয় করি। তারা প্রতিটি গরু ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৬৫০ টাকা করে টোল দিতে বাধ্য করেন। আমি প্রতিবাদ জানালে তারা আমার সহিদ খারাপ আচারন করেন। এ বিষয়ে আমি ১২ ই মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। 

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার  হাট_ বাজার গুলোর প্রবেশ পথ গুলোতে  কোথাও টোল তালিকা প্রদর্শন করা হয় নাই। হাটের মূল ইজারাদার প্রতিটি মালের বাজার পৃথকভাবে সাবলিজ প্রদান করেছেন। সাবলিজ গ্রহীতারা পৃথক মালামাল বাজারে টোল আদায়ের জন্য বিভিন্ন লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা সরকারি নীতিমালা বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের মনগড়া হারে টোল আদায় করে চলেছেন। প্রতিটি পন্যের উপর। এ টোল আরো বেশি হবে আসন্ন ঈদ উল আজহায়। এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতা দুইজনের কাছ থেকে প্রতিটি বিক্রিত মালামালের বিপরীতে দুই দফায় টোল আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটে মালামাল বহনকারী প্রতিটি গাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা  চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলেও ব্যবসায়ীরা মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। শুধু তাই নয়, হাট রশিদে টোল আদায়ের পরিমান উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে চামটার হাট ইজারাদার হুমায়ন কবীর মিন্টুর সহিত মুঠোফোনে কথা হলে সরকার নিধারিত ৩৫০ টাকার বদলে ৬৫০ টাকা এবং শুধুমাত্র ক্রেতার নিকট টোল আদায় না করে উভয় পক্ষের নিকট টোল আদায় কেন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্বাক্ষাতে বলতে হবে। আর এ টোল তো আগ হতে আদায় করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান এর সহিত মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধা হতাশ কণ্ঠে বলেন, বাবারে প্রতিবাদ করলে অপমান অমু”। সাধারন মানুষ মনে করেন হাটগুলো টোল চাট সাটানো, টোল রশিদে টোলের পরিমান উল্লেখ না করায় এসব গলাকাটা টোল আদায় হচ্ছে। এছাড়াও হাট বাজারগুলো মনিটরিং করা দরকার।

Print Friendly, PDF & Email