লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পিবিআই সদস্যের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী বাজারের এক মুদি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পিবিআই সদস্যের নামে টাকা হাতিয়ে নিলো আলাউদ্দিন নামে এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি মোবাইল ফোন সেট হারানোকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী পুলক চক্রবর্তীর কাছ থেকে সাড়ে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
জানা গেছে, নুরুল আমীন সুজন নামের জনৈক ব্যক্তির ‘স্যামস্যাং গ্যালাক্সি এ-৫০’ মডেলের একটি মোবাইল ফোনসেট হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি নোয়াখালীর সুধারাম থানায় একটি জিডি করেন। (জিডি নং-১৯৮০, তাং-৩০.০৯.১৯)। ডিজির সূত্র ধরে মোরশেদ নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নোয়াখালী শাখার এক সদস্য খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন লক্ষ্মীপুরের দিঘলী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী পুলক চক্রবর্তীর ভাই প্রান্ত চক্রবর্তী ওই মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেছেন। গত ১৪ মার্চ তিনি পিবিআই এর কয়েকজন সদস্য এবং চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্চাসেবকলীগের সভাপতি মো. আলাউদ্দিনকে নিয়ে পুলক চক্রবর্তীর মুদি দোকানে আসেন।
পুলক চক্রবর্তী জানান, আমার ভাই প্রান্ত চক্রবর্তী একটি মোবাইল ফোন একটি যাত্রীবাহি বাসে পায়। পরে সে মোবাইলটি একজনকে দিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পিবিআই সদস্য পরিচয়ে মোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি কয়েকজন সদস্য নিয়ে তার দোকানে আসেন। এ সময় তাদের সাথে তাদের এলাকার স্বেচ্চাসেবকলীগ নেতা আলাউদ্দিন ছিলো। পরে ঘটনাটি সমাধানের জন্য আলাউদ্দিনের মধ্যস্ততায় পুলক তাদের হাতে সাড়ে ২৬ হাজার টাকা তুলে দেয়।
পুলকসহ উপস্থিত বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, পিবিআই সদস্য পরিচয়ে মোরশেদ নামের ওই ব্যক্তির দাবিকৃত টাকা আলাউদ্দিনের হাতে দেয় পুলক। টাকা নিয়ে আলাউদ্দিন পিবিআই এর গাড়িতে করে তাদের সাথে চলে যায়। পরদিন পুলককে নোয়াখালী পিবিআই এর অফিসে যেতে বলে। সেখানে গেলে তাকে একটি কাগজে ‘হারানো মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে’ মর্মে একটি লিখিত সাদা কাগজ ধরিয়ে দেয়।
ওই কাগজে মোবাইল হস্তান্তরকারী হিসেবে পুলক চক্রবর্তী, প্রদীপ চক্রবর্তী ও মোবাইল গ্রহণকারী হিসেবে মো. নুরুল আমীন সুজন নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। এতে হারানো ফোনের জিডি সূত্র উল্লেখ করে মোবাইল ফোন ফিরিয়ে পাওয়ায় আপোস মিমাংস্যার কথা উল্লেখ করা হয়।
পিবিআই সদস্য মোরশেদ বলেন, মোবাইল হারানো একটি জিডির সূত্র ধরে আমি লক্ষ্মীপুরের দিঘলীতে যাই। সেখান থেকে হারানো মোবাইলটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফেরৎ দেওয়া হয়। টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমি অবগত নই। স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলাউদ্দিনের সাথে আমাদের ওই বাজারে দেখা হয়েছে। তাকে গাড়িতে উঠানো হয়নি।
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলাউদ্দিন বলেন, একটি মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পিবিআই সদস্য আসলে আমিও সেখানে যাই। আমি পুলকের কাছ থেকে কোন টাকা নিইনি। আর পিবিআই এর গাড়িতেও উঠিনি। এলাকার একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা চালাচ্ছে।
Print Friendly, PDF & Email